বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

যুক্তরাজ্যকে সিলেটের চা শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান

সিলেটের চা শিল্পের আধুনিকায়ন ও উৎপাদন বাড়াতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে এক বৈঠকে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ সময় দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরো জোরদার করা এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বাংলাদেশ কার্যকর ও টেকসই অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কাজ করতে চায়।’

সিলেটের চা শিল্পে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের চা বাগানে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার চা শিল্পে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে নতুন কর্মসংস্থান বাড়বে, একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সার কারখানাগুলো গ্যাস সংকটে পুরো বছরজুড়ে চালু থাকে না। এলপিজির মাধ্যমে কারখানা চালু করার জন্য বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রয়োজন।’ এ সময় ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের সার কারখানাগুলোর পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্যও তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে সারাহ কুক সিলেটের চা বাগান, সি ফুড, লেদার প্রসেসিং, এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে বিনিয়োগে বিশেষ আগ্রহ দেখান। তিনি বলেন, ‘এসব খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীরা কাজ করতে আগ্রহী।’

এ বৈঠক প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ফেসবুক পেজ ‘ইউকে ইন বাংলাদেশ’-এ বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের উদার বাণিজ্য সুবিধা ব্যবস্থা ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস)’ আলোচনা হয়েছে। এটি কীভাবে বাংলাদেশের রফতানি বৈচিত্র্যকরণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে, পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম কমিয়ে আনতে পারে—সেসব বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ‘ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ)’ ও ‘ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট (বিআইআই)’ থেকে পাওয়া সম্ভাব্য সহায়তার তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের কথা তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।

আরও